১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
কোনো এক টিভি চ্যানেলের সংবাদে....
: আজ ভোর ৬ টায় "ক"-স্থানে দুইটি লাশ পাওয়া গিয়েছে, এখনো লাশের কোনো পরিচয় বা ডিটেইলস পাওয়া যায় নি! পুলিশের তদন্ত চলছে, বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে! তবে ধারনা করা হচ্ছে যে, এইটা এক ধরনের খুন এবং গতকাল রাতের এই দূর্ঘটনা হয়েছে!।।।।।।
১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, রাত ৯ টায়...
রায়হান শ্রুতিকে প্রোপোজ করলো, এবং শ্রুতি খুশি হয়ে রায়হানের দেওয়া আংটি হাতে পরে জড়িয়ে ধরলো!
আমি দূর থেকে তাদের দুজনকে দেখছি! চোখের পানি শুকিয়ে গিয়েছে, তাই চোখ শুকনা ছিলো কিন্তু হাত মুঠো করে নিজেকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম! তাদের দুজনের প্রথম চুম্বনের সাক্ষী হয়তো আমিও হলাম, দৃশ্যটি দেখার জন্য আমি হয়তো প্রস্তুত ছিলাম না, কিন্তু দেখতে হলোই!
আমি নিজেকে ঐ স্থান থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নিলাম! এইসময় একটা সিগারেট দরকার! সিগারেটের ধোয়ায় ভেসে উঠছিল আমার আর শ্রুতির সেই সকল দিনগুলো......
(৩ বছর পূর্বে)
: শ্রুতি, পড়া শেষ তোর?
: হ্যা আপাতত শেষ! পরীক্ষা কেমন হয় দেখা যাক!
: সেইটাই, hope for the best!
: দোয়া করিস রে! বাট আজকের বিকেলের প্ল্যান হচ্ছে তো?
: আরেহ হ্যা! আমার মনে আছে! সারপ্রাইজ রেডি ম্যাডাম আপনার জন্য!
...
...
....
...
: শুভ জন্মদিন,শ্রুতি!
: ধন্যবাদ, তাহমিদ! আমি সত্যিই ভাবি নি যে তুই আমার জন্য এমন কিছু করবি!
: আরেহ এতো কিছুই না! আরো বাকি আছে!
: বাহ! কিন্তু তার আগে আমি কিছু বলতে চাই! আশা করি তুই আমাকে ঠিকমতো বুঝতে পারবি!
: হঠাত এতো সিরিয়াস? কি হয়েছে?
: আরেহ শুন তো আগে!
দেখ, আমি ফ্রেন্ড হিসেবে অনেক ভালো কিন্তু তুই যদি এর থেকে বেশি কিছু ভাবিস এখন না হলেও ভবিষ্যতেও,তাও আমার কাছে কেমন জানি লাগবে! আসলে আমি এখন এইসব চাই না, আমি তোকে ফ্রেন্ড হিসেবেই অনেক ভালো ভাবে দেখি এবং সবসময় এভাবেই থাকতে চাই!
: শ্রুতি আমি কিন্তু কিছু বলিনি!
:জানি তুই বলিস নাই কিছু, কিন্তু কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম আমি বলবো! কারণ আমি চাই না আমাদের বন্ধুত্বের এই সম্পর্কের কিছু হোক! এখন এই সব শুনে আবার সেন্টি খাইস না!
:আরেহ না রে পাগল! প্যারা নাই! ভালো হইসে বলসিস!
: এখন আমার বাকি সারপ্রাইজ কই?
: আছে তো! এইযে এইটা তোর জন্য!
: ওও,!! "শেষের কবিতা" ধন্যবাদ রে!
: তাহমিদ, এই পুরো ডেকোরেশন তোর প্ল্যান?
:হ্যা! আমার মাথায় অনেক প্ল্যান বুঝলি হাহাহা!
:আচ্ছা আমার কথায় কিছু মনে করিস নি তোহ?
: আরেহ না রে! ভালো হয়েছে যে বলেছিস! এখন ঠিক মতো খেয়েনে! ঠান্ডা হয়ে যাবে!
(ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক -- "তোর কথা" গান)
....
...
....
...
১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, রাত ১০ টা
সিগারেট যে কখন শেষ হয়েছে তা টের পাইনি! হাতে হালকা আগুনের আচ আসাতে কল্পনা ভাঙলো! যার কাছে ভালোবাসা থেকে বন্ধুত্ব প্রিয়,সে আজকে তারই কলেজের বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে আছে! নাইস!
কি কপাল আমার!
...
...
...
(১ সপ্তাহ আগে)
:তাহমিদ,আমি রায়হান! শ্রুতির কলেজের ফ্রেণ্ড! তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো!
: হ্যা অবশ্যই!
: আসলে আমি শ্রুতিকে অনেক পছন্দ করি, আমি ওকে প্রপোজ করতে চাই, তুমি কি আমাকে একটু হেল্প করবে?
: শ্রুতি জানে?
: নাহ নাহ! আমি আসলে ওকে সারপ্রাইজ দিতে চাই!
: অও আচ্ছা! ঠিক আছে অবশ্যই!
....
...
...
...
(১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫,রাত ১১টা)
(হঠাত "তোর কথা"- গান বেজে উঠলো!)
এই গানটা শুধু আমার! কিন্তু কেনই বা বাজবে না :( সব প্ল্যান তো আমারই! ডেকোরেশন,খাবার, সবকিছু আমার প্ল্যান,সেইদিনের মতো সবকিছু একই প্রায় শুধু মানুষটা ভিন্ন! ধ্যাত! এখনো মেনে নিতে পারছি না! ওরা দুজন হয়তো এখন খাওয়া-দাওয়া করছে!
আরেকটা সিগারেট জালালাম! হঠাত ভিতর থেকে শ্রুতির চিল্লানোর আওয়াজ পেলাম! আমি সিগারেট ফেলে দৌড় দিলাম, দেখলাম রায়হান শ্রুতির সাথে জবরদস্তি করছে!
আমি নির্বাক হয়ে ভাবলাম, আমার কি যাওয়া উচিত কি না?!
জানি না কি ভেবে এগিয়ে গেলাম, টেবিলের উপর একটা ফুলদানি ছিল, সেটা দিয়ে রায়হানের মাথায় জোরে একটা বারি দিলাম!
রায়হান অজ্ঞান হয়ে গেলো!
শ্রুতি উঠে আমাকে দেখে খানিকটা অবাক হলো!
: তুই এখানে?
: হ্যা, তুই বিপদে আমি আসবো না এমনটা কি হয়?! হাহা
: কিন্তু ওকে মারার কি দরকার ছিলো, আস্তে করে ধাক্কা দিলেই তো পারতি!
: sorry! বেশি জোরে লাগে নি !
(আমি জানি কতো জোরে আমি মেরেছি)
:রায়হান তুমি ঠিক আছো তো? রায়হান ? রায়হান ?
মিথ্যা কেনো বলসিস? রক্ত দেখসিস কত?!
(কেনো জানি " মিথ্যা" শব্দটা ওর মুখ থেকে শুনার পর মাথাটা ঘুরে গেলো,১০ সেকেন্ডের মধ্যে আমি কেমন জানি হয়ে গেলাম)
পাশেই কাটা চামচ ছিলো, আস্তে করে হাতে নিয়ে দিলাম ওর এক হাতে বসিয়ে!!
:(শ্রুতির চুল ধরে) আমি জানি কোনো একদিন কোনো এক নতুন ভোরে,কথা হবে আমার.......
হাহাহাহাহা
খুব ব্যাথা লাগতেসে রে? আমারও লাগতেসে! অনেক!!! সেইদিন যখন আমাকে বন্ধুত্বের কথা দিয়ে আমাকে চুপ করে রেখেছিলে! এই দেখ, আংটি টা এখনো আমার পকেটে! ভেবেছিলাম একদিন না একদিন বলবো কিন্তু বলবো কিভাবে?? এই মা***** আইসে বলে ও তোকে ভালোবাসে! চু** শালা!
: তোর মাথা ঠিক আছে?
: হ্যা একদম আছে! দাড়া প্রপোজ করি তোকে!
হাত দে!
কিরে এই পচা আংটি দিছে এই হালা? মা**** খুল এই টা!
: নাহ খুলবো না আমি! কি করবি তুই?
: কি আর করবো! জোর করে খুলবো আমি হাহাহা
(কিরে খুলে না কেন!)
: খুলবেও না কখনো!
: আচ্ছা খুলবেনা যেহেতু,তাহলে আঙুল কেটে ফেলি!, দাড়া!!
( তাহমিদ শ্রুতি ঐ আঙুলটা কেটে ফেললো ছুরি দিয়ে)
: খুব ব্যাথা তাই না! থাক আর কষ্ট দিবো না! এখন আমাকে বল আমাকে কেন মিথ্যা বললি? আমিও ফ্রেন্ড ছিলাম, এই শু*** তোর ফ্রেন্ড!
আমাকে বাদ দিয়ে এই হালা রে কেন জড়িয়ে ধরলি! দরদ এই শালার জন্য কেন!!
: আমি রায়হানকে ভালোবাসি তোকে না! তোর মতো বেয়াদপ ফ্রেন্ড রাখাই আমার ভুল!!
: আমার কি দোষ? ওর থেকে বেশি ভালোবাসতাম আমি তোকে! কেন এমন করলি আমার সাথে? আবার বাচালাম আমি, তাও দরদ এই বেটার জন্য! এক কাজ করি, এই হালারে মাইরে ফেলি এরপর দেখি কেমন বাচিস তুই!
(শ্রুতি ধীরে ধীরে অজ্জান হওয়ার মতো)
: দেখ, তাহমিদ! ওকে মারিস না! আমিই ওকে ভালোবাসতাম! ওর কিছু করিস না!
: আচ্ছা! তাই ,ওরে দরদ রে! তাইলে তোরে মারি নিজ হাতে অন্যরকম একটা শান্তি পাবো!!
...
....
দেখা হবে আমাদের আবার কোন এক স্বপ্নের শহরে..........
(তাহমিদ শ্রুতিকে ছুরি দিয়ে মেরে ফেললো)
...
...
আমি শ্রুতির চোখে ওর জন্য যা ভালোবাসা দেখলাম সেটা যদি আমার জন্যও একটু হতো, তাও বেচে থাকাটা আরো শ্রেয় হতো!
...
....
...
(তাহমিদ ছুরি নিয়ে আস্তে আস্তে রায়হানে দিকে...)
আমি তোকে নিয়ে যাবো আবার রুপকথা সেই....
....
....
(১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫, সকাল ১০ টা)
(সংবাদে)
:গতকাল ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর রাতে এই হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে! পুরো ঘটনা তদন্ত করার পর পুলিশ আমাদের জানান যে, লাশ ছিলো শ্রুতি নামের এক মেয়ের এবং তাহমিদ নামের এক ছেলের!
পুলিশ আরো জানান যে, ঘটনাস্থলে একটা ফোন পাওয়া গিয়েছে, যাতে পুরো হত্যাকাণ্ড এর তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং তাতে তাহমিদের পুরো কনফেশন পাওয়া গিয়েছে! তাহমিদ শ্রুতিকে জোর করে খারাপ কিছু করতে লাগলে রায়হান বাধা দিতে গেলে তাহমিদ রায়হানকে বারি মেরে অজ্ঞান করে,এবং পরবর্তীতে শ্রুতিকে খুন করে নিজের আত্মহত্যা করে!
রায়হানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং এখন সে সুস্থ আছে!
....
....
(১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, রাত ৩.৩০ মিনিটে)
এতো ভালোবাসিস যেহেতু,তাই তোর কথাই রাখি বরাবরে মতো! রায়হান একদম সেইফ থাকবে আর আমিও তোর কাছেই আসতেসি রুপকথার শহরে!
তাহমিদ তার ফোনে পুরো ঘটনার একটা ভিডিও কনফেশন রেখে যায়...
...
...
...
[THE END]
(বি.দ্রঃ পুরো গল্পটি কাল্পনিক! বাস্তব জীবনের সাথে এর কোনোই মিল নেই! গল্পের চরিত্র পুরোই কাল্পনিক এবং অমিল)

Comments
Post a Comment