Skip to main content

Balance Of Life (When the truth is conquered)

আজ সকালে জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের প্রথম শ্রেণির লিভারের গঠন ও কাজ পড়তেছিলাম! চিত্রটা আঁকার সময় মাথায় কি জানি চিন্তা এলো! মাঝের পিভটটিকে মানুষের জীবন, একপাশের ভারকে মানুষের সুখ এবং অপর দিকের প্রচেষ্টাকে দুঃখের সাথে সংগ্রাম করাকে কল্পনা করলাম! দুপাশের ওজন সমান থাকে বলেই মানবজীবন এক স্থির পর্যায়ে অবস্থান করে! পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যাদের সুখের পাল্লা দুঃখের সাথে সংগ্রামের পাল্লা অপেক্ষা বেশি!!  আবার এমন মানুষও নেই যাদের সংগ্রামের পাল্লা একটু বেশি!

ইউনিভারসাল সত্য হিসেবে প্রতিটি মানুষই ভাবে যে তাদের দুঃখের সাথে সংগ্রামের পাল্লা সুখ থেকে বেশি!  এবং তাদের কপালে তারা সুখ নামক দুর্লভ বস্তুটি নেই!

কথাটি মূলত ভুল!!  মানবজীবনে সুখ-দুঃখ দুটিই সমান! বরং যারাই দুঃখের সাথে মোকাবেলা করে জিততে পারে তাদের সুখ নিশ্চিত!!

ধরি,
একটি ওয়ানডে ম্যাচে 'ক' দলের সাথে 'খ' দলের খেলায় ক-দল ৫০০ রানের টার্গেট দেয় খ-দলকে। এত্ত বিশাল রানের টার্গেট দেখে হতাশায় টেনশনে ভয়ে ভেঙে পড়ে খ-দল!বরং আত্নবিশ্বাস ও মজবুত মনোবল না থাকায় খ-দল ৫০০ রানের জবাব দিতে পারে না! এবং ম্যাচটি হেরে যায়!

মানবজীবনের পথটা এমনটা এরকম! পথে চলার সময় বাধা আসবেই! কোনো না কোনো বাধা আসবেই সেটা মিথ্যা হোক কিংবা কারো খারাপ পরিকল্পনা হোক! এবং একদল মানুষ থাকবেই ক্ষতি করার কেননা তাদের কোনো কাজ নেই মানুষের ক্ষতি করা ছাড়া! তাই বলে কি আমরা ভয়ে বসে থাকবো!টেনশনে পড়ে নিজেদের ক্ষতি করবো!মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিয়ে মাথা নিচু করে আমরা নিজেদেরই বলবো --- "হে আল্লাহ!  সত্যিই কি সত্যের জয় হয় না?সততার ফল পাওয়া যায় না?"
এই কথাটি হয়তো হাজারো মানুষ নিজেদের বলে কিন্তু তারা ভুলে যায় সত্যের একদিন না একদিন জয় ঠিকই হয়! শুধুমাত্র সত্যের হয়ে কাজ করতে হবে ভয়-ভীতি দূর করতে হবে! দূর্বল থেকে নিজেকে সবল করতে হবে! তবেই মানবজীবন তার সুখ অর্জন করতে পারবে!

খ-দলটি যদি জয়ের মনোবল এবং ৫০০ রানের টার্গেটকে তুচ্ছ মনে করে ভীতির সাথে নিজেদের চেষ্টা দিয়ে যুদ্ধ করতে পারে তবেই জয় নিশ্চিত!
তেমনটি মানুষ যদি বিপদে দিশেহারা না হয়ে সত্যের হয়ে দুঃখের সাথে মোকাবেলা করতে পারে তবেই মানুষ তার জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যর আলো দেখবে!

জীবনে দুঃখ আসবেই তাই বলে কি ভেঙে পড়ে ঘরে বসে থাকলে হবে! জীবন কিন্তু কারো জন্যই থেমে নয়! জীবনের সাথে লড়াই করার উদ্দ্যম-চেতনাকে অর্জন করতে হবে তবেই সাফল্য-সুখ নিশ্চিত হবে!
আসুন আমরা সত্যের সাথে নিজেদেরকে নিয়োজিত করি এবং মিথ্যাকে প্রশ্রয় না দিয়ে তা প্রতিরোধ করি!

Comments

Popular posts from this blog

একটি মধ্যবিত্ত ভালবাসার গল্প

কিছু গল্প সবসময় এক হয় না!  পার্থক্য, ভেদা-ভেদ সবকিছুতেই থাকে।ঠিক তেমনি ভালবাসার গল্পগুলোতেও কিছু মিল-অমিল পাওয়া যায়!আর আজকে ঠিক তেমনি অতি সাধারণ একটা গল্প তুলে ধরতে যাচ্ছি! 'মধ্যবিত্ত' শব্দটা হয়তো সকলেরই অনেক পরিচিত। মধ্যবিত্ত মানুষগুলো ধনী-গরীব হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন।তাদের চিন্তা-ভাবনা,চলাফেরা এমনকি জীবনযাপনও ভিন্ন। আর মধ্যবিত্ত ভালবাসা এর মানে বুঝাই যাচ্ছে এর মধ্যেও কিছুটা ভিন্নতা আছে! ♥ কলেজ পড়ুয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের সাথে প্রেম করা বর্তমান যুগের মেয়ের জন্য তুলনামুলক প্যারাময়! কেননা এইসকল ছেলের থাকে না টাকা-পয়সা,মোটরসাইকেল আর কত কি!  কিন্তু মেয়েরা ভুলে যায়, অন্যদের মতো ঐ ছেলেদেরও সুন্দর একটা মন আছে, তারাও ভালবাসতে জানে!  টাকা-পয়সা বাইক এইসব শো অফ করাই কি ভালবাসা?? প্রেমিকার জন্মদিনে বড় অনুষ্ঠান করা, এ্যানিভার্সারি পালন করা আর আজাইরা টাকা খরচও কি ভালবাসা?? :/ ভালবাসা এমন হতে পারে না........ ১০০ টাকায় রিক্সা ভাড়া করে কিছুদূর ঘুরা! পাশাপাশি বসে একসাথে ফুচকা খাওয়া!♥ জন্মদিনে/অথবা অন্যকিছুতে টিফিনের এবং যাতায়াতের টাকা বাঁচিয়ে প্রিয় মানুষের জন্য ছোট্ট কিছু করা ...

এপার/ওপার

(উক্ত গল্পের সকল চরিত্র কাল্পনিক! গল্পের কাহিনী কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে তার জন্য লেখক কখনোই দায়ী নয়!) বর্তমানের মানুষরা আসলেও ভার্চ্যুয়াল প্রেমকাহিনীতে বিশবাসী নয় অথবা তাদের কাছে এরকম গল্প কেবলমাত্র সিনেমা অথবা নাটকেই সম্ভব বলে মনে হয়! কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমনটা নয়! বলা যেতে পারে আমি নিজেও এসব ফেইসবুক কেন্দ্রিক ভালবাসা পছন্দ করতাম এমনকি মনেও করতাম না যে এধরণের ভালবাসা আসলেও টিকে থাকে কিনা! কিন্তু কে জানতে এই ফেইসবুক আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার সাথে দেখা করাবে! মার্ক জুকারবার্গ  ফেইসবুক আবিষ্কার করেছিল মানুষের কমিউনিকেশন এর জন্য কিন্তু কে জানতো মানুষ এই ফেইসবুক দিয়ে প্রেম-ভালবাসা এমনকি সংসার পর্যন্ত গড়ে তুলবে! আমার গল্প বরাবরের মতো সবার মতো হলেই এর মধ্যে ছিল কিছু ভালবাসার রং,সংস্কৃতির ছোয়া এমনকি ছিল দুটি ভিন্ন শহরের গল্প! কে জানতো এপার-ওপার আজ এক বিন্দুতে যুক্ত হবে ♥ আমি রায়হান! নিজের ভালবাসার গল্প বলতে অনেক আগ্রহী কেননা ঘটনা কিংবা গল্প দুটই এতো সুন্দর যে নিজের মনের স্মৃতি এখনো গেথে আছে! আমার মনে হয় তন্বীও ভুলে নি!! এখন জিজ্ঞাসা করতে পারেন তন্বী কে...

বন্ধুত্ব

বন্ধু শব্দটা মূলত অনেক কমন!  শৈশব থেকেই এই শব্দের যাত্রা শুরু হলেও কৈশোরকাল থেকে বন্ধু শব্দটা উপলব্ধি করা যায়! আর সত্যি বলতে এয়ারটেলের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই আসল বন্ধুত্ব এর মর্ম বুঝা যায়! :p কমবেশি বন্ধু কিন্তু সবারই থাকে।  তবে সব বন্ধু এক রকম না কিংবা একজাতের না. .. খুব অল্প কিছু বন্ধু থাকে, যারা একদমই অন্যরকম !! সবার থেকে ভিন্ন! অন্য বন্ধুরা যখন বৃষ্টি হইলে তোমার জন্য ছাতা নিয়ে দৌড়ায়ে আসবে ... "এই নে " কিংবা এক ছাতার নিচে থেকে একসাথে যাবে! অন্যরকম বন্ধুগুলা তখন উল্টা তোমার মাথার ছাতাটা কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দিয়ে বলবেঃ "ছাতা কি কামে লাগে ?? চল ভিজি !!" বন্ধুর পাল্লায় পড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তোমার জ্বর হবে ...পরিণতি ভালো হবে না! তুমি যখন কাতর গলায় বলবা, তোমার জ্বর আসছে, শুধুমাত্র তোর কারণে!.. তখন ঐ অসাধারণ বন্ধু তোমারে বলবেঃ(হাসতে হাসতে) "তো ?? আজকে জ্বর হইছে, কালকে নিউমোনিয়া হবে !!" "কি বলতেছিস এগুলা ??তুই আমারে বোদোয়া দিতেসিস!!" "হুম ... আমি দোয়া করি তোর নিউমোনিয়া হোক !!" "কেন ? তাতে তোর কি লাভ?" "তোর নিউমোনিয়া হইলে...