Skip to main content

অতপর কনফেশন

বৃষ্টির এই আবহাওয়াতে বাইরের মৃদু বাতাস, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ এবং ঢাকার কোলাহলময় ব্যস্ত রাস্তায় অসুস্থ নিজেকে বরই অসহায় লাগছিল! উদ্দেশ্য কাওরান বাজার হলেও মনে চাচ্ছিল যেন হারিয়ে যাই এই মৃদু শুভ্র আবহাওয়ার এক নিস্তব্ধ পরিবেশে, যেখানে পাশে বসে থাকবে হয়তো আমার প্রিয় অচেনা এক প্রেয়সী♥, আশেপাশে থাকবে ফুলের সুভাস এবং হালকা বাতাসের সেই শনশন আওয়াজ যেন নিস্তব্ধ পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে! সুন্দর এই কল্পনা ভাঙার জন্য কোনো অদ্ভুত আওয়াজ প্রয়োজন হয়না! কোনোরকম এক তীব্র আওয়াজ পেলেই চলবে! তেমনটাই ঘটলো!! হেল্পার মামার সেই ফার্মগেট, গুলিস্তান, শাহবাগের চিল্লানী আবারো আমাকে ফিরিয়ে আনলো বাস্তবতার সেই ব্যস্ততায়!

উঠলাম, বসলাম! কিন্তু হেল্পার মামার চিল্লানী ক্রমানয়ে বাড়তে লাগলো!আমি আবারো চিন্তায় ডুবার আগেই আমার চোখে পড়লো মাথার উপরের ছোট্ট একটা ফ্যান!! বাহ! কত্ত সুন্দর ফেসেলিটিস জনগণের জন্য! কিন্তু ব্যস্ত কোলাহলময় মানুষ তা নিয়ে না ভেবে ফাউল জিনিস নিয়ে ভাবতে থাকতে!!

হেল্পার মামার সাথে প্যাসেঞ্জারের ভাড়া নিয়ে চিল্লানী এবং আশেপাশের মানুষের আজগুবি কাজ দেখতে দেখতে বিআরটিসি এর দোতালা বাস এসে থামলো ফার্মগেট!!

জানালার বাইরে তাকিয়ে আমি দেখতে লাগলাম ব্যস্ত ভর্তি কোচিং এর বড় ভাই-আপুদের! স্বপ্ন পূরণের জন্য তারা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের চেষ্টা! ভীড়ের এই ফার্মগেটে কোথা থেকে কেন জানি এক স্নিগ্ধতার আভাস পেলাম! জানালার বাইরে থেকেই দেখলাম বাসে ৩ টি সাদা ড্রেসের মেয়ে উঠলো!
তাদের মধ্যে একজন ছিল একটু বেশি অন্যরকম!যেহেতু সাদা ড্রেস এবং সেটা কলেজ ড্রেস ---- আমার বুঝে উঠতে বেশি দেরি হলো না যে মেয়েটি হলিক্রস কলেজের!

চেয়ে রইলাম অপলক দৃষ্টিতে! মিষ্টি তার হাসি এবং চোখগুলো টানা টানা! রোমান্টিক গল্প অথবা কবিতা অথবা সিনেমার মতো মেয়েটির চুল বাতাসে উড়ছিল না ! চুল যে বাধা ছিল! :p

কলেজ করে যে সে ক্লান্ত তা তার মুখে ক্লান্তির ছাপ দেখেই বুঝা যাচ্ছিল! বারবার হাত দিয়ে সে চুলগুলো ঠিক করছিল এবং একের পর এক খাতা সে ব্যাগ থেকে বের করছিল! ইশ! একটু যদি নামটা জানতে পারতাম! ধ্যাত!  কপালে তা নেই! হেল্পার মামা ভাড়া চাইলে ওর এক ফ্রেন্ড ভাড়া দিয়ে দেয় এবং বলে গুলিস্তানের ভাড়া রাখেন! মামা স্টুডেন্ট দেখে তর্কাতর্কি না করে নিদিষ্ট ভাড়া রাখে!

আজকে রাস্তার জ্যাম মোটেও বিরক্ত লাগছিল না! মনে হয়তেছিল আরো যাতে ৫-৬ ঘন্টা জ্যাম থাকে! আর বিআরটিসি বাস কর্তৃপক্ষকে নোবেল দিতে ইচ্ছা করছিল কেননা নিচতালার তাদের সিট সাজানো জোস ছিল! আমি সেই অপরুপ ক্লান্ত পরীকে আমার বিপরীতেই দেখতে পাচ্ছি! এইরকম সামনাসামনি সিট বাসে রাখা উচিত! ♥♥

অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলছিল ও! আর আমি কথা না বুঝেও আনমনে শুনেই যাচ্ছিলাম! আর তাকে দেখছিলাম! সে দু-তিনবার আমার দিকে তাকিয়ে ছিল কিন্তু আমি সাথে সাথে চোখ সরিয়ে ফেলেছি!!

ঠিক এমন এক মুহুর্তে হেল্পার মামা কাওরান বাজার বলল, বাস থামলো! আমার নামার সময় আসলো! নামার ইচ্ছাই ছিল না কিন্তু নামা লাগলো! না জানতে পারলাম নাম, না জানলাম কোন ক্লাস, না জানলাম SPARTAN না TORJAN!  ক্ষণিকের মধ্যে সব শেষ!
আবার ব্যস্ত শহরের সাথে মিশে গেলাম আমি আর সেই অচেনা মানুষটি!

হয়তো আমার লেখাটা পরে একদিন না একদিন তুমি আমাকে সাড়া দিবে এবং আমাকে খুঁজবে!

--- আজ দুপুর ৩.৩৮ মিনিটে বিআরটিসি বাসের তোমার বিপরীতে বসা নেভিব্লু টি-শার্ট পরা এক নিষ্পাপ বালক!  :p

অতপর আলভি কনফেশন পেজে লেখাটা দিয়েই দিল! সে শুধু একটিবার তার সেই চিরঅচেনা মানুষটিকে দেখতে চায়!! শুধু একটিবার!

অপেক্ষার প্রহর শুরু হলো!

আলভি কি তার প্রিয় অচেনা মানুষটিকে আবার দেখতে পাবে? :)

Comments

Popular posts from this blog

একটি মধ্যবিত্ত ভালবাসার গল্প

কিছু গল্প সবসময় এক হয় না!  পার্থক্য, ভেদা-ভেদ সবকিছুতেই থাকে।ঠিক তেমনি ভালবাসার গল্পগুলোতেও কিছু মিল-অমিল পাওয়া যায়!আর আজকে ঠিক তেমনি অতি সাধারণ একটা গল্প তুলে ধরতে যাচ্ছি! 'মধ্যবিত্ত' শব্দটা হয়তো সকলেরই অনেক পরিচিত। মধ্যবিত্ত মানুষগুলো ধনী-গরীব হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন।তাদের চিন্তা-ভাবনা,চলাফেরা এমনকি জীবনযাপনও ভিন্ন। আর মধ্যবিত্ত ভালবাসা এর মানে বুঝাই যাচ্ছে এর মধ্যেও কিছুটা ভিন্নতা আছে! ♥ কলেজ পড়ুয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের সাথে প্রেম করা বর্তমান যুগের মেয়ের জন্য তুলনামুলক প্যারাময়! কেননা এইসকল ছেলের থাকে না টাকা-পয়সা,মোটরসাইকেল আর কত কি!  কিন্তু মেয়েরা ভুলে যায়, অন্যদের মতো ঐ ছেলেদেরও সুন্দর একটা মন আছে, তারাও ভালবাসতে জানে!  টাকা-পয়সা বাইক এইসব শো অফ করাই কি ভালবাসা?? প্রেমিকার জন্মদিনে বড় অনুষ্ঠান করা, এ্যানিভার্সারি পালন করা আর আজাইরা টাকা খরচও কি ভালবাসা?? :/ ভালবাসা এমন হতে পারে না........ ১০০ টাকায় রিক্সা ভাড়া করে কিছুদূর ঘুরা! পাশাপাশি বসে একসাথে ফুচকা খাওয়া!♥ জন্মদিনে/অথবা অন্যকিছুতে টিফিনের এবং যাতায়াতের টাকা বাঁচিয়ে প্রিয় মানুষের জন্য ছোট্ট কিছু করা ...

এপার/ওপার

(উক্ত গল্পের সকল চরিত্র কাল্পনিক! গল্পের কাহিনী কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে তার জন্য লেখক কখনোই দায়ী নয়!) বর্তমানের মানুষরা আসলেও ভার্চ্যুয়াল প্রেমকাহিনীতে বিশবাসী নয় অথবা তাদের কাছে এরকম গল্প কেবলমাত্র সিনেমা অথবা নাটকেই সম্ভব বলে মনে হয়! কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমনটা নয়! বলা যেতে পারে আমি নিজেও এসব ফেইসবুক কেন্দ্রিক ভালবাসা পছন্দ করতাম এমনকি মনেও করতাম না যে এধরণের ভালবাসা আসলেও টিকে থাকে কিনা! কিন্তু কে জানতে এই ফেইসবুক আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার সাথে দেখা করাবে! মার্ক জুকারবার্গ  ফেইসবুক আবিষ্কার করেছিল মানুষের কমিউনিকেশন এর জন্য কিন্তু কে জানতো মানুষ এই ফেইসবুক দিয়ে প্রেম-ভালবাসা এমনকি সংসার পর্যন্ত গড়ে তুলবে! আমার গল্প বরাবরের মতো সবার মতো হলেই এর মধ্যে ছিল কিছু ভালবাসার রং,সংস্কৃতির ছোয়া এমনকি ছিল দুটি ভিন্ন শহরের গল্প! কে জানতো এপার-ওপার আজ এক বিন্দুতে যুক্ত হবে ♥ আমি রায়হান! নিজের ভালবাসার গল্প বলতে অনেক আগ্রহী কেননা ঘটনা কিংবা গল্প দুটই এতো সুন্দর যে নিজের মনের স্মৃতি এখনো গেথে আছে! আমার মনে হয় তন্বীও ভুলে নি!! এখন জিজ্ঞাসা করতে পারেন তন্বী কে...

বন্ধুত্ব

বন্ধু শব্দটা মূলত অনেক কমন!  শৈশব থেকেই এই শব্দের যাত্রা শুরু হলেও কৈশোরকাল থেকে বন্ধু শব্দটা উপলব্ধি করা যায়! আর সত্যি বলতে এয়ারটেলের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই আসল বন্ধুত্ব এর মর্ম বুঝা যায়! :p কমবেশি বন্ধু কিন্তু সবারই থাকে।  তবে সব বন্ধু এক রকম না কিংবা একজাতের না. .. খুব অল্প কিছু বন্ধু থাকে, যারা একদমই অন্যরকম !! সবার থেকে ভিন্ন! অন্য বন্ধুরা যখন বৃষ্টি হইলে তোমার জন্য ছাতা নিয়ে দৌড়ায়ে আসবে ... "এই নে " কিংবা এক ছাতার নিচে থেকে একসাথে যাবে! অন্যরকম বন্ধুগুলা তখন উল্টা তোমার মাথার ছাতাটা কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দিয়ে বলবেঃ "ছাতা কি কামে লাগে ?? চল ভিজি !!" বন্ধুর পাল্লায় পড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তোমার জ্বর হবে ...পরিণতি ভালো হবে না! তুমি যখন কাতর গলায় বলবা, তোমার জ্বর আসছে, শুধুমাত্র তোর কারণে!.. তখন ঐ অসাধারণ বন্ধু তোমারে বলবেঃ(হাসতে হাসতে) "তো ?? আজকে জ্বর হইছে, কালকে নিউমোনিয়া হবে !!" "কি বলতেছিস এগুলা ??তুই আমারে বোদোয়া দিতেসিস!!" "হুম ... আমি দোয়া করি তোর নিউমোনিয়া হোক !!" "কেন ? তাতে তোর কি লাভ?" "তোর নিউমোনিয়া হইলে...