Skip to main content

We Don't Growup!!

--- আব্বু আব্বু!!
--- হ্যা, বল বাবা! কি হয়েছে!
--- ৮০০০ টাকা লাগবে!!
--- হঠাত এত্তো টাকা কেনো লাগবে!?? কিছু দরকার নাকি?
--- আসলে সামনে ঈদ! তাই শপিং করবো!
--- আচ্ছা আচ্ছা! পরে কইরো শপিং! এখন না! আর কয়েকদিন পর!!আমারা একসাথে মার্কেটে যাবো!
--- না আব্বু! আজকেই! আমি এখন বড় হয়ে গিয়েছি! আর তাছাড়া আমার নিজেরও কিছু পছন্দ আছে!
--- শোন বাবা! বাসায় টাকা-পয়সার একটু টান আছে রে ! কয়েকদিন পরেই নিস! এবং একাই যাইস সমস্যা নেই!

--- না আব্বু! আজকে আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে মার্কেটে যাবো!তাই টাকা আজকেই লাগবে!
(হঠাত করে পাশের রুম থেকে এসে মা তার ছেলেকে ৬ হাজার টাকা দেয়!)
--- ধন্যবাদ আম্মু! আজকে আমি আমার পছন্দমতো শপিং করবো! কিন্তু আরো হলে ভালো হতো,তবে আমি ম্যানেজ করতে পারবো!
....
--- তুমি এতো টাকা পেলে কিভাবে?
--- বাসার ভাড়া থেকে দিলাম! আপনি বোনাস / বেতন পেলেই বাসা ভাড়া দিয়েন।জরিমানা বেশি আসবে না! আগে সন্তানের মুখে হাসি ফুটানো দরকার।
-- আচ্ছা ঠিক আছে!
......
(শপিং মলে)
--- কি রে! তুই খালি ঘুরতেছিস যে? কিছু কিনবি না?
--- না রে! পছন্দই হয় না! আগে আসলে সব আম্মুর পছন্দই কেনাকাটা করতাম এবং আজকে সেই ঘাটতিটি অনুভব করতে পারসি!
--- আরেহ ওইসব বাদ দে! বাচ্চাকালের কথা এসব বলে লাভ আছে!! আজকে আমরা গুলশান যাবো ইফতার করতে, যাবি না?
--- দেখা যাক!
দীর্ঘ ৩-৪ ঘন্টা পরও আবিদ কিছুই কিনতে পারেনি! বরং সে তার মায়ের কমতি এবং বাবার টাকার সংকট ঠিকই উপলব্ধি পেরেছে!
(ইফতারের ১৫ মিনিট আগে)
(বেল বেজে উঠলো)
--- কি রে বাবা! তুই না বললি সকালে বাইরে ইফতার করবি? হঠাত বাসায় যে!
--- আম্মু! খাবার রেডি? আমি ফ্রেশ হয়ে আসি!
....
(ইফতার শেষে)
--- আজকে কি কি কিনলি?মার্কেটে দাম কেমন? বেশি নাকি অনেক?
---কিছুই কিনি নাই! তোমরা কিছু কিনবা না?
--- তাহলে কি টাকায় হয়নি? আরো দরকার ছিল?
--- নাহ তেমন না!
--- কি হয়েছে?
--- আসলে আম্মু ছাড়া কিছুই পছন্দ হয়নি! প্রতিবার আম্মু সবকিছু পছন্দ এবং এবারও তাই হবে!
আর এই নাও! ৬০০০ টাকা! লাগবে না!
--- বুঝলাম! আর বাসায় এলি যে!
--- দেখো তোমারা দুজন আমার সাথে আর মজা করো না!জানো তোমাদের ছাড়া আমার ইফতার ঠিক মতো হয় না এবং আম্মুর খাবার ছাড়া কোনো খাবার ভালোও লাগে না!
এবার বলো শপিং -এ কবে যাবা?
....
হয়তো এভাবেই আমরা নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পারি!
বাস্তব জীবন এটাই, বাবা-মা আমাদের জীবনে যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে তা আমাদের বুঝে উঠার বয়স এখন পর্যন্ত হয়নি! নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে তারা তাদের সন্তানের সুখকে প্রাধান্য দেয়!! এরই নাম বাবা-মা!আর এরকম নিঃস্বার্থ আপনজন এই পৃথিবীতে আর কেউ নাই। এই সম্পর্কের চেয়ে মধুর ও মিষ্টি সম্পর্ক আর একটিও নেই!

লাভ ইউ বাবা
লাভ ইউ মা

Comments

Popular posts from this blog

একটি মধ্যবিত্ত ভালবাসার গল্প

কিছু গল্প সবসময় এক হয় না!  পার্থক্য, ভেদা-ভেদ সবকিছুতেই থাকে।ঠিক তেমনি ভালবাসার গল্পগুলোতেও কিছু মিল-অমিল পাওয়া যায়!আর আজকে ঠিক তেমনি অতি সাধারণ একটা গল্প তুলে ধরতে যাচ্ছি! 'মধ্যবিত্ত' শব্দটা হয়তো সকলেরই অনেক পরিচিত। মধ্যবিত্ত মানুষগুলো ধনী-গরীব হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন।তাদের চিন্তা-ভাবনা,চলাফেরা এমনকি জীবনযাপনও ভিন্ন। আর মধ্যবিত্ত ভালবাসা এর মানে বুঝাই যাচ্ছে এর মধ্যেও কিছুটা ভিন্নতা আছে! ♥ কলেজ পড়ুয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের সাথে প্রেম করা বর্তমান যুগের মেয়ের জন্য তুলনামুলক প্যারাময়! কেননা এইসকল ছেলের থাকে না টাকা-পয়সা,মোটরসাইকেল আর কত কি!  কিন্তু মেয়েরা ভুলে যায়, অন্যদের মতো ঐ ছেলেদেরও সুন্দর একটা মন আছে, তারাও ভালবাসতে জানে!  টাকা-পয়সা বাইক এইসব শো অফ করাই কি ভালবাসা?? প্রেমিকার জন্মদিনে বড় অনুষ্ঠান করা, এ্যানিভার্সারি পালন করা আর আজাইরা টাকা খরচও কি ভালবাসা?? :/ ভালবাসা এমন হতে পারে না........ ১০০ টাকায় রিক্সা ভাড়া করে কিছুদূর ঘুরা! পাশাপাশি বসে একসাথে ফুচকা খাওয়া!♥ জন্মদিনে/অথবা অন্যকিছুতে টিফিনের এবং যাতায়াতের টাকা বাঁচিয়ে প্রিয় মানুষের জন্য ছোট্ট কিছু করা ...

এপার/ওপার

(উক্ত গল্পের সকল চরিত্র কাল্পনিক! গল্পের কাহিনী কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে তার জন্য লেখক কখনোই দায়ী নয়!) বর্তমানের মানুষরা আসলেও ভার্চ্যুয়াল প্রেমকাহিনীতে বিশবাসী নয় অথবা তাদের কাছে এরকম গল্প কেবলমাত্র সিনেমা অথবা নাটকেই সম্ভব বলে মনে হয়! কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমনটা নয়! বলা যেতে পারে আমি নিজেও এসব ফেইসবুক কেন্দ্রিক ভালবাসা পছন্দ করতাম এমনকি মনেও করতাম না যে এধরণের ভালবাসা আসলেও টিকে থাকে কিনা! কিন্তু কে জানতে এই ফেইসবুক আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার সাথে দেখা করাবে! মার্ক জুকারবার্গ  ফেইসবুক আবিষ্কার করেছিল মানুষের কমিউনিকেশন এর জন্য কিন্তু কে জানতো মানুষ এই ফেইসবুক দিয়ে প্রেম-ভালবাসা এমনকি সংসার পর্যন্ত গড়ে তুলবে! আমার গল্প বরাবরের মতো সবার মতো হলেই এর মধ্যে ছিল কিছু ভালবাসার রং,সংস্কৃতির ছোয়া এমনকি ছিল দুটি ভিন্ন শহরের গল্প! কে জানতো এপার-ওপার আজ এক বিন্দুতে যুক্ত হবে ♥ আমি রায়হান! নিজের ভালবাসার গল্প বলতে অনেক আগ্রহী কেননা ঘটনা কিংবা গল্প দুটই এতো সুন্দর যে নিজের মনের স্মৃতি এখনো গেথে আছে! আমার মনে হয় তন্বীও ভুলে নি!! এখন জিজ্ঞাসা করতে পারেন তন্বী কে...

বন্ধুত্ব

বন্ধু শব্দটা মূলত অনেক কমন!  শৈশব থেকেই এই শব্দের যাত্রা শুরু হলেও কৈশোরকাল থেকে বন্ধু শব্দটা উপলব্ধি করা যায়! আর সত্যি বলতে এয়ারটেলের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই আসল বন্ধুত্ব এর মর্ম বুঝা যায়! :p কমবেশি বন্ধু কিন্তু সবারই থাকে।  তবে সব বন্ধু এক রকম না কিংবা একজাতের না. .. খুব অল্প কিছু বন্ধু থাকে, যারা একদমই অন্যরকম !! সবার থেকে ভিন্ন! অন্য বন্ধুরা যখন বৃষ্টি হইলে তোমার জন্য ছাতা নিয়ে দৌড়ায়ে আসবে ... "এই নে " কিংবা এক ছাতার নিচে থেকে একসাথে যাবে! অন্যরকম বন্ধুগুলা তখন উল্টা তোমার মাথার ছাতাটা কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দিয়ে বলবেঃ "ছাতা কি কামে লাগে ?? চল ভিজি !!" বন্ধুর পাল্লায় পড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তোমার জ্বর হবে ...পরিণতি ভালো হবে না! তুমি যখন কাতর গলায় বলবা, তোমার জ্বর আসছে, শুধুমাত্র তোর কারণে!.. তখন ঐ অসাধারণ বন্ধু তোমারে বলবেঃ(হাসতে হাসতে) "তো ?? আজকে জ্বর হইছে, কালকে নিউমোনিয়া হবে !!" "কি বলতেছিস এগুলা ??তুই আমারে বোদোয়া দিতেসিস!!" "হুম ... আমি দোয়া করি তোর নিউমোনিয়া হোক !!" "কেন ? তাতে তোর কি লাভ?" "তোর নিউমোনিয়া হইলে...